গোলাপগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি: সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির নেতা মাহবুবুর রহমান আওয়ামী লীগে যোগদান করেছেন। তার এ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
রবিবার (২০ জানুয়ারি) ফুলবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে আয়োজিত এক যোগদান অনুষ্ঠানে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগের প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউপি সদস্য মজনু আহমদ এবং সঞ্চালনা করেন ছালিক আহমদ চৌধুরী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট লুৎফর রহমান।
অনুষ্ঠানে জেলা ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে মাহবুবুর রহমান আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। এ সময় তিনি বলেন, ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগের আদর্শ, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে কাজ করতে চান।
যোগদান অনুষ্ঠানে মাহবুবুর রহমান বলেন,
“দেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা এবং এলাকার মানুষের কল্যাণের স্বার্থে আমি আওয়ামী লীগের সঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অনুপ্রাণিত হয়ে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি।”
পরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বিএনপি ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগদানের কারণ ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন—
“আমি বিএনপির মনোনয়ন ও দলীয় প্রতীক নিয়ে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলাম। সেই দল ত্যাগ করার কোনো পরিকল্পনা বা ইচ্ছা আমার কখনোই ছিল না। তবে সময়ের বাস্তবতা, রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সর্বোপরি আমার এলাকার সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে আমাকে আওয়ামী লীগে যোগদানের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
২০১৬ সালে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর গত দুই বছরে আমি আমার ইউনিয়নের প্রত্যাশিত উন্নয়নে কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা রাখতে পারিনি। রাস্তাঘাট নির্মাণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, কালভার্ট নির্মাণ, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগকালীন সরকারি সহায়তা ও স্থানীয় এমপির বরাদ্দের ক্ষেত্রে অন্যান্য আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যানদের ইউনিয়নের তুলনায় আমার ইউনিয়ন তুলনামূলকভাবে কম বরাদ্দ পেয়েছে।
যোগদানএর প্রধান কারণ ছিল সরকার ছিল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদ ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা, আর আমি ছিলাম বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান। ফলে উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনায় নানা সীমাবদ্ধতার সম্মুখীন হতে হয়েছে।
২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ পুনরায় রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর আমার বহু শুভাকাঙ্ক্ষী, রাজনৈতিক সহকর্মী এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ আমাকে পরামর্শ দেন যে, ভবিষ্যতে এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রম সচল ও গতিশীল রাখতে হলে আওয়ামী লীগে যোগদানের কোনো বিকল্প নেই। আমিও উপলব্ধি করি যে, জনগণের প্রত্যাশিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকারি সহযোগিতা ও বরাদ্দ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নির্বাচনের সময় আমি জনগণের কাছে বিভিন্ন উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। সেই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের জন্য সরকারের সহযোগিতা অপরিহার্য ছিল। মূলত এলাকার উন্নয়ন, জনগণের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল রাখার লক্ষ্যেই আমাকে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।”
এদিকে মাহবুবুর রহমানের দল পরিবর্তনের খবরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিএনপির কয়েকজন নেতা এ ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করলেও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এটিকে দলের জন্য ইতিবাচক ও গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মাহবুবুর রহমানের এ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত আসন্ন স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে এবং এলাকার রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
যোগদান অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রহীম, ফুলবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল্লাহ, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য আফিয়া বেগম, অর্চনা বেগম, নুরী বেগমসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
Tags
সিলেট
